বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট ২০২৬ - ১৬:৫৩
ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা মানবে না পাকিস্তান

আন্তর্জাতিক আইন মেনে ইরানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে পাকিস্তান। একই সঙ্গে তেহরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত একতরফা নিষেধাজ্ঞা মেনে চলবে না বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।

হাওজা নিউজ এজেন্সি: বৃহস্পতিবার ইসলামাবাদে সাপ্তাহিক সংবাদ ব্রিফিংয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র তাহির আন্দ্রাবি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ প্রসঙ্গে ইরানের বার্তা সংস্থা আইআরএনএ’র এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

তাহির আন্দ্রাবি বলেন, “পাকিস্তান বরাবরই একতরফা পদক্ষেপের বিরোধিতা করে আসছে এবং আমরা একতরফা নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করি না।”

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা নিষেধাজ্ঞা মানবে না পাকিস্তান

তিনি বলেন, এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পাকিস্তান এসব একতরফা নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি দেয় না।

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অর্থনৈতিক চাপকে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার বৃহত্তর সংঘাতের অংশ হিসেবে উল্লেখ করে পাকিস্তানি মুখপাত্র বলেন, সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো কূটনীতি ও সংলাপের মাধ্যমে সমাধান করা জরুরি।

ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য অব্যাহত রাখার বিষয়ে পাকিস্তানের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি ও সমঝোতা অনুযায়ী ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক অব্যাহত রাখবে ইসলামাবাদ।

পাকিস্তানি কূটনীতিকের এ বক্তব্য এমন সময় এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র সোমবার ইরানের বিরুদ্ধে নতুন দফার নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। তথাকথিত ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় আরোপিত এসব নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রাখা যেকোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের ওপরও গৌণ নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়েছে ওয়াশিংটন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সামরিক আগ্রাসনের মাধ্যমে যে লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হয়নি, অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তা অর্জনের চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন এই ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবিরোধী’ অভিযান ঘোষণা করে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় নরম্যান্ডিতে মিত্রবাহিনীর অবতরণের সঙ্গে এর তুলনা করেন।

প্রেস টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেসেন্টের দাবি অনুযায়ী, নতুন নিষেধাজ্ঞাগুলো বিশ্বজুড়ে ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ককে লক্ষ্য করে আরোপ করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে—এমন কোনো অংশীদারই ওয়াশিংটনের নাগালের বাইরে নয়।

বেসেন্ট আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে লেনদেনকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করেছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা দেওয়া হবে। অন্যথায় তাদের মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha